কৃষিতে নারীরা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল অদৃশ্য

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

কৃষিতে নারীরা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল অদৃশ্য

দীর্ঘদিন ধরে কৃষিখাতে নারীদের অবদান প্রায় অদৃশ্যই থেকে গেছে—এমন মন্তব্য করেছেন কর্নওয়ালের কৃষক ও জনপ্রিয় টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর মারিয়া ওয়ার্ন-এলস্টন। ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের নতুন এক গবেষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এই গবেষণা “শক্তিশালী, কারণ এতে সত্যিকার অর্থেই নারীদের কথা শোনা হয়েছে।”

ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষিখাতে যুক্ত নারী কৃষকদের মানসিক সুস্থতা জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গবেষণাটি গত গ্রীষ্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর রুরাল পলিসি রিসার্চ এবং ফার্মিং কমিউনিটি নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়।

২২ বছর বয়সী মারিয়া ওয়ার্ন-এলস্টন বলেন, কৃষিখাতে যুক্ত নারীদের মতো তাকেও “একাধিক ভূমিকা” পালন করতে হয়।
তিনি বলেন, “কৃষিকাজ আমাদের কাছে শুধু একটি পেশা নয়, এটি আমাদের পুরো জীবন।”

একদিনের কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে মারিয়া বলেন, “কখনো খামারের কাগজপত্র সামলাই, কখনো পশু খাদ্য দিই, শত শত ভেড়া সামলাই, আবার সন্তানদের দেখাশোনাও করতে হয়। অনেক সময় দুপুরের আগেই এসব শেষ করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “কৃষিকাজ আনন্দের হলেও এটি অনেক সময় একাকী ও মানসিকভাবে ক্লান্তিকর। মানুষ বুঝতে পারে না নারীরা কত বড় মানসিক চাপ বহন করে। অর্থনীতি, কাগজপত্র, পরিবার—সবকিছু সামলানোর পাশাপাশি আমাদের শারীরিক শ্রমও দিতে হয়।”

ফয়োয়ের কাছে লেয়োন ফার্মের মালিক দুগ্ধ খামারি ব্রিজেট ওয়েল বলেন, কৃষিখাতে নারীরা সাধারণত উপেক্ষিত থাকেন।
তিনি বলেন, “যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত না থাকা যায়, তাহলে মনে হয় ব্যবসার বাইরে পড়ে যাচ্ছি। নারীদের জন্য এটি সত্যিই একটি জটিল পরিস্থিতি।”

গবেষণায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ১৮ থেকে ৯৫ বছর বয়সী দুই হাজারেরও বেশি নারী কৃষক অংশ নেন। গবেষণা দলের প্রধান ও সেন্টার ফর রুরাল পলিসি রিসার্চের সিনিয়র গবেষক ড. রেবেকা হুইলার বলেন, গবেষণার ফলাফল “খুবই উদ্বেগজনক।”

তিনি জানান, অংশগ্রহণকারীদের ৩৬ শতাংশের মানসিক সুস্থতার স্কোর কম, ৩৭ শতাংশ উচ্চ মাত্রার উদ্বেগে ভুগছেন এবং অনেকের মধ্যেই তীব্র একাকীত্ব লক্ষ্য করা গেছে।
ড. হুইলার বলেন, “নারীরা খামারে যে বিপুল কাজ করেন, তা অনেক সময় স্বীকৃতি পায় না। ফলে তাদের ভূমিকা অদৃশ্যই থেকে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক নারী আছেন যারা খামারের আনুষ্ঠানিক নথিতে নাম না থাকলেও নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।”

এ বিষয়ে ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের এক মুখপাত্র বলেন, কৃষিখাতে অনেক অনুপ্রেরণাদায়ী নারী রয়েছেন।
তিনি বলেন, “নারী কৃষকরা আমাদের শিল্পের দূত হিসেবে কাজ করছেন, খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরছেন এবং কৃষিখাতকে একটি শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বর দিচ্ছেন।”