কুষ্টিয়া ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২৫
যমুনার বুক জুড়ে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরে যে বিশাল পলিমাটি জেগে ওঠে, সেখানে ধীরে ধীরে গজিয়ে ওঠে কাইশার সবুজ ঘাস। সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলগুলোতে বন্যার পর এই কাইশার সবুজ রঙ যেন এক নতুন প্রাণ ঢেলে দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সবুজ ঘাস সোনালী রঙে মিশে যায়, আর চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের জন্য তা হয়ে ওঠে জীবিকার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বন্যার পানি নামার কিছুদিন পরই কাইশা এক থেকে দেড়ফুট লম্বা হয়ে ওঠে। তখন থেকেই স্থানীয় কৃষকরা এটি সংগ্রহ শুরু করেন। ছোট কাইশা গুলো সাধারণত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বাজারেও এর চাহিদা কম নয়। হেমন্তের সময় কাইশার ফুল আসলে পুরো চর যেন সাদা আকাশে ভেসে ওঠে, একটি চোখে পড়ার দৃশ্য।
চরের মানুষদের জন্য কাইশা শুধু পণ্য নয়, এটি জীবিকার মূল উৎস। ফুলজোড় চরের বারিক মিয়া বলেন, ছোট কাইশা গরুকে খাওয়াই, বড় গুলো কেটে শুকিয়ে বাজারে বেচি। বিক্রি করা টাকাই আমাদের সংসার ঘুরায়।
সাবেক ইউপি সদস্য মোকলেছুর রহমান বলেন, চরের মানুষ বছরের চার থেকে পাঁচ মাস কাইশা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। অনেক কাইশা বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গ্রামে গিয়ে ডালা, ঝাঁকা, ফুলদানীসহ নানা ব্যবহার্য জিনিসে রূপান্তরিত হয়। শুনেছি, অনেক কাইশা দেশের বাইরে পর্যন্ত যাচ্ছে।
কাইশার ছোট্ট আঁটি যেন চরের দরিদ্র মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে সাহায্য করছে—প্রতিদিনের খাটুনি আর সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে। এই ছোট্ট ঘাসের টানে বাঁচে এক পুরো সম্প্রদায়।


সম্পাদক: জাহিদ হাসান
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কৃষিবিডি.কম, কৃষিবিডি প্রাইভেট মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসলাম সুপার মার্কেট (২য় তলা), আমলা, মিরপুর, কুষ্টিয়া-৭০৩২।
যোগাযোগ:
০১৭৮০৮২৭৬০০,
info@krishebd.com
mail.krishebd@gmail.com
Crafted with by Softhab Inc © 2021