মুকুলে ছেয়ে গেছে আমের গাছ, বাগানির চোখে স্বপ্ন

প্রকাশিত: ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

মুকুলে ছেয়ে গেছে আমের গাছ, বাগানির চোখে স্বপ্ন

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমের গাছ মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের ঘ্রাণ। আমের মুকুল আর মৌ মৌ ঘ্রাণ বসন্ত ঋতুকে যেন নতুন রূপ দিয়েছে। মুকুলের রূপ ও ঘ্রাণ মানুষকে বিমোহিত করছে।

পল্লিকবি জসিম উদ্দিনের কবিতার সেই চিরচেনা পঙ্‌ক্তি “আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা মামার বাড়ি যাই…” যেন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে।

উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের খানাতুয়া গ্রামের আমচাষী ও বাগান মালিক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি ও তার ছোট ভাই মাসুদ মিয়া মিলে তিন বিঘা জমিতে উন্নত জাতের আমগাছ রোপণ করেছেন। তাদের প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। গাছ বড় হতে সময় লাগায় আগের বছরগুলোতে লাভ হয়নি, তবে খরচের বড় একটি অংশ উঠে এসেছে।

আনোয়ার হোসেন আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। সঠিক পরিচর্যা করছি। প্রকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।’

মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘প্রতিটি গাছে মুকুল দেখে মন ভরে যায়। এখন দরকার সঠিক পরিচর্যা। কৃষি কর্মকর্তারা যদি নিয়মিত পরামর্শ দেন এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আম পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।’

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৬ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ১৪৫ মেট্রিক টন।

উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম সরোয়ার তুষার জানান, ভালো ফলনের জন্য ফুল আসার আগে এবং মটর দানার মতো গুটি অবস্থায় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। ফুল-ফল ঝরে পড়া রোধে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম বোরন সার বা বোরিক অ্যাসিড মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমবে এবং ফলন ভালো হবে।

মনোহরগঞ্জে এখন আমের মুকুলে মুকুলে স্বপ্নের সুবাস। বাগান মালিকরা প্রত্যাশায় দিন গুনছেন, আমের ফলন ভালো হবে, তাদের মুখে হাসি ফুটবে।