করনোয় সুরক্ষিত পরিবেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২১

করনোয় সুরক্ষিত পরিবেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন

জলবায়ু, পরিবেশ এবং মানুষ একে অপরের সঙ্গে অতি নিবিড়ভাবে যুক্ত। প্রত্যেকটি জীব প্রজাতির মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত নিবিড় পারস্পরিক সম্পর্ক। মানুষ তার দৈনিন্দন জীবনের প্রায় সব কিছুই পায় পরিবেশ থেকে। আবার এই মানুষই তার প্রয়োজনে এবং অপ্রয়োজনে পরিবেশের ক্ষতি করে চলছে প্রতিনিয়ত।

পরিবশের এই বিপর্যয় রোধ করতে বিভিন্ন কর্মোদ্যোগ আর জনসচেতনতার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার লক্ষ্যে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস।১৯৭২ সালের ৫ জুন শুরু হয়  জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ কনফারেন্স সেই থেকেই ৫ জুন কে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসাবে চালু করে জাতিসংঘের সাধারণ সভা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার  দিবসটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে।এবার পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ কলম্বিয়া। জার্মানির সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তারা।করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর ভার্চুয়াল মাধ্যমেই বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল আয়োজন করেছে আয়োজক দেশ দুইটি ।

‘ইটস টাইম ফর নেচার (সময় এখন প্রকৃতির) স্লোগানে পালিত হওয়া বিশ্ব পরিবেশ দিবস এর এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জীববৈচিত্র্য’।এর লক্ষ্য কীভাবে পৃথিবীর বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বিকাশ করা যায়, সেই রূপ কাঠামো গঠন।

মানুষ যতই আধুনিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে, পরিবেশের উপরে ততই চাপ পড়ছে। ফলে বাড়ছে কল কারখানার কালো বিষাক্ত ধোঁয়া এবং বর্জ্য। বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য, বাসস্থান এবং অন্যান্য চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বিলুপ্ত হচ্ছে বনাঞ্চল, নদী-নালা, খাল-বিল। সেই সঙ্গে বিলুপ্ত হচ্ছে এসব স্থানে বসবাস করা বিভিন্ন ধরণের ছোট বড় বন্যপ্রাণী।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচারের (আইইউসিএন) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রায় ৩১ হাজার জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে, যা মোট প্রজাতির শতকরা ২৭ ভাগ।

আয়োজক দেশ কলম্বিয়া বলছে, এখন তাদের দেশে প্রায় ১০ লাখ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় আর আসেনি।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ না করায় জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়াতে লবণাক্ত পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তর এলাকা। এতে মানুষ গৃহহীন হয়ে ভাসমান জীবন যাপন করছে। বাসস্থান অ ফসলের জমি হারিয়ে মানুষ হয়ে পড়ছে গৃহহীন ও কর্মহীন।

জাতিসংঘ বলছে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ না করাতে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্যই শুধু নষ্ট হচ্ছে না আমরা এর মাধ্যমে আমাদের জীবনকে ধ্বংস করছি। কোভিড আমাদের সেই শিক্ষা দিচ্ছে উল্লেখ করে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে আমরা জীববৈচিত্র্য রক্ষা করলে শুধু খাদ্যেরই যোগান পাব না বরং ওষুধসহ নির্মল পানি এবং বাতাস পাব। যা মানুষের সুস্থতার বড় অনুষঙ্গ হতে পারে।