প্রকৃতিতে ফিরছে একসময়ের বিলুপ্ত প্রায় দৈত্যকচ্ছপ

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২৫

প্রকৃতিতে ফিরছে একসময়ের বিলুপ্ত প্রায় দৈত্যকচ্ছপ

দেশের নদী ও মোহনায় একসময় এমন এক কচ্ছপ সাঁতার কাটত, যা দেখতে পেলেই বিস্ময়ে চোখ বড় হয়ে যেত। প্রায় ২৫ থেকে ২৭ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির কচ্ছপটির নাম বাটাগুর বাসকা। স্থানীয়ভাবে একে ‘নদীর কাইট্টা কচ্ছপ’ নামেও ডাকা হতো। পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন কচ্ছপের তালিকায় শীর্ষে থাকা এই প্রজাতি একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল।

একসময় সুন্দরবন থেকে শুরু করে মিয়ানমার-থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া উপকূল পর্যন্ত এই কচ্ছপের বসতি ছিল। তবে নির্বিচারে শিকার, নদীতটে মানুষের দখল, বাসস্থান ধ্বংস, মাছ ধরার জাল ও দূষণের কারণে বাটাগুর বাসকার সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে যায়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন এই প্রজাতিকে মহাবিপন্ন তালিকাভুক্ত করেছে। একসময় পদ্মা, মেঘনা, পায়রা ও সুন্দরবনের নদীগুলোতে নিয়মিত দেখা যেত এই কচ্ছপ। কিন্তু ২০০০ সালের দিকে গবেষকেরা ধারণা করেন, পৃথিবীতে আর বাটাগুর বাসকার কোনো অস্তিত্ব নেই।

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, এখন পর্যন্ত করমজলে ৫১৯টি ডিম থেকে ৪৩৩টি বাচ্চা ফুটেছে। এছাড়া বর্তমানে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে ৪৫৭টি কচ্ছপ রয়েছে। এ বছর তিনটি বাটাগুর বাসকা মোট ৮২টি ডিম দিয়েছে। তা থেকে ৬৫টি বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। তিনি আরও জানান, বিশেষ ইনকিউভেশন বালুর নিচে রেখে ডিমগুলো ফোটানো হয়। বাচ্চা কচ্ছপগুলোকে প্রথমে পানির ট্যাংকে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক পরিবেশে মানিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাটাগুর বাসকার পুনর্জীবন বাংলাদেশের সংরক্ষণ ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এই সফলতা প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রচেষ্টায় হারিয়ে যাওয়া প্রজাতিকেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘একসময় মনে হয়েছিল এই কচ্ছপ চিরতরে হারিয়ে গেছে। কিন্তু এখন আমরা দেখছি, প্রজনন সম্ভব এবং বাচ্চাগুলো টিকে থাকছে। এটা বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।’