কুষ্টিয়া ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬
রংপুরে টানা কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে আলু ক্ষেতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ব্লাইট বা আলুর মড়ক রোগ। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোগে আক্রান্ত গাছের পাতায় কালচে দাগ ও ফোসকার মতো ক্ষত তৈরি হচ্ছে। ধীরে ধীরে পাতা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়কে আলুর মড়ক রোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ধরা হয়। বিশেষ করে নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘলা আবহাওয়া এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
কৃষকদের ভাষ্য, আলুর চারা যখন সতেজ হয়ে সবুজ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের প্রভাবে লেট ব্লাইট বা পাতামড়ক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও তারা রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলু চাষি বিপ্লব হোসেন অপু জানান, তিনি এক একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। গত ৭ ডিসেম্বর তিনি স্টিক জাতের আলু রোপণ করেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ছত্রাকনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এবার আবহাওয়ার প্রভাবে ব্লাইটের পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে। ইউরিয়া সার ব্যবহারের কারণেও রোগটি আরও বিস্তার লাভ করেছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ যদি এমন আবহাওয়া বিরাজ করে, তাহলে আলু চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। বিগত বছরগুলোতে আলু চাষে যে লোকসান হয়েছে, তা তারা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। সামনে ফলন কমে গেলে আবারও লোকসানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ি সেরুডাঙ্গা এলাকার কৃষক আবু বকর জানান, তার আলু ক্ষেতে উঠতি গাছগুলোর পাতার নিচে কালচে রং ধরেছে। ঘন কুয়াশা ও শীতের তীব্রতায় তিনি আলু ক্ষেত নিয়ে চিন্তিত। কৃষি অফিসের পরামর্শে রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্প্রে ব্যবহার করলেও আলুর উৎপাদন আশানুরূপ হবে কিনা, তা নিয়ে তিনি শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের বগুড়াপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলু চাষে লোকসান হয়েছিল। এ বছর অল্প পরিমাণ জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। কিন্তু শীতের সকালে আলু ক্ষেতে গিয়ে পোকা ধরা গাছ দেখলে মন ভেঙে যায়। এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এবারও আলুতে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, আলুর ব্লাইট বা মড়ক রোগ প্রতিরোধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আগেই কৃষকদের সতর্ক করেছে। সম্প্রতি অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং থেকে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, শীত মৌসুমে লেট ব্লাইট রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় ফসল সুরক্ষায় কৃষকদের আগাম করণীয় ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় আলুর মড়ক রোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন মেঘলা আবহাওয়া ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ১ লাখ ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলায় ৫৪ হাজার ৫০০ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১২ হাজার ৫০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৭ হাজার ১০০ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং নীলফামারীতে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হচ্ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আলুর মড়ক রোগ একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগের কারণে আলু নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ বিভিন্ন কারণে প্রতি মৌসুমে সারাদেশে ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।


সম্পাদক: জাহিদ হাসান
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কৃষিবিডি.কম, কৃষিবিডি প্রাইভেট মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসলাম সুপার মার্কেট (২য় তলা), আমলা, মিরপুর, কুষ্টিয়া-৭০৩২।
যোগাযোগ:
০১৭৮০৮২৭৬০০,
info@krishebd.com
mail.krishebd@gmail.com
Crafted with by Softhab Inc © 2021