এবার দেশে স্বীকৃতি পাচ্ছে কৃত্রিম চাল

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৫

এবার দেশে স্বীকৃতি পাচ্ছে কৃত্রিম চাল

বাস্তবে অস্তিত্ব না থাকলেও দেখতে সরু ও ঝকঝকে চেহারার ‘মিনিকেট’ চালের স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে সরকার। আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকায় সম্প্রতি এ চাল বাজারজাত বন্ধ করতে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। পরে মন্ত্রণালয়ের চাপে সেই চিঠি স্থগিত করেছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
সেখানে বিস্তারিত আলোচনা শেষে কৃষি, খাদ্য, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
মিনিকেট নামে আদৌ কোনো ধান নেই সাফ জানিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। তাদের মতে, ব্রির উদ্ভাবিত বিভিন্ন সরু আকৃতির ধান থেকে উৎপাদিত চাল পলিশ করে বাজারে মিনিকেট নামে বিক্রি করা হচ্ছে।
দুই বছর আগে আইন করে এই নামের চাল বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হলেও দাপট কমেনি মিনিকেটের। বর্তমান বাজারে ১৮টি নামে বিক্রি হচ্ছে এ চাল।
উল্লিখিত বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে খাদ্যসচিব মাসুদুল হাসান নিজ দপ্তরে কালের কণ্ঠকে বলেন, জাত নাম না থাকলেও মিনিকেট নামে প্রচুর চাল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভোক্তা অধিকার এ নামে চাল বাজারজাত বন্ধ করার চিঠি দিয়েছিল।
মিনিকেট তুলে নেওয়া হলে চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠবে। চালের দামে নৈরাজ্য শুরু হবে। যে নামেই হোক, লাখ লাখ মানুষ এ চাল খাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এসংক্রান্ত আইনটি করার আগে অংশীজনের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এ কারণে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করতে হবে। বৈঠকে এ ধরনের মতামতই বেশি এসেছে। তার পরও চার মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের সুপারিশের আলোকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইসমাইল হোসেন জানান, মিনিকেট নামে আসলে কোনো ধানের জাত নেই। ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পাঁচ-দশ কেজি চালের প্যাকেট বিতরণ করা হতো—যেগুলোকে বলা হতো ‘মিনিকেট’। পরে সেখান থেকে বাংলাদেশে মিনিকেট নামের চালের বাজারজাত শুরু হয়। মূলত ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ ধান পলিশ ও গ্রেডিং করে বাজারে মিনিকেট বা নাজির নামে চালানো হচ্ছে।
মোটা ধান পলিশ করে মিনিকেট বানানোর এ প্রক্রিয়া বন্ধে ২০২৩ সালে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণনসহ এসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। এ আইনের ৩ নম্বর ধারায় কোনো অনুমোদিত জাতের খাদ্যশস্য থেকে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যকে ভিন্ন বা কাল্পনিক নামে বিপণনকে অপরাধ হিসেবে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যদ্রব্যের স্বাভাবিক উপাদানকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অপসারণ বা পরিবর্তন করে উৎপাদন বা বিপণনকেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে অনূর্ধ্ব দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তার পরও বাজারে দেদার মিনিকেট নামে চাল বিক্রি হচ্ছে।
২৯ সেপ্টেম্বর আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেখানে কয়েক কোটি মানুষ মিনিকেট নামে বাজার থেকে প্রতিদিন চাল কিনছে। সেখানে নামের কারণে কোনো সমস্যা তো হচ্ছে না। আর যাঁরা বলছেন, চাল কেটে মিনিকেট তৈরি করা হয়, সেটা সঠিক নয়। কারণ, চাল কাটার মতো মেশিন এখনো আবিষ্কার হয়নি। এগুলো সবই এক ধরনের গসিপ। আমরাও চাই আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই মিনিকেট জঞ্জাল থেকে মুক্তি পেতে।’
সুত্র: কালের কন্ঠ