কুষ্টিয়ায় শরিফার চাষে ভাগ্য বদল: লাখ টাকা আয়

প্রকাশিত: ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৫

কুষ্টিয়ায় শরিফার চাষে ভাগ্য বদল: লাখ টাকা আয়

কৃষিবিডি প্রতিবেদক: 

“গ্রামের রাস্তার ধারে, ঝোপঝাড়ে এবং পরিত্যাক্ত বাগানে অবেহলায় বেড়ে উঠা বিলুপ্তপ্রায় শরিফার বানিজ্যিকভাবে চাষ করছেন কুষ্টিয়ার কৃষকরা। স্বল্প পরিশ্রম, রোগবলাই কম এবং বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় বানিজ্যিকভাবে শরিফা চাষ করে সফল হয়েছেন কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার কৃষক জালাল উদ্দিন। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ১বিঘা জমিতে বানিজ্যিক ভাবে এ ফল চাষ করেছেন তিনি। এ বাগান থেকে তিনি ২-৩ লাখ টাকার শরিফা ফল বিক্রি করেছেন। তবে স্থানীয় বাজারে এ ফলের দাম কিছুটা কম পাচ্ছেন বলে জানান জালাল উদ্দিন।”


কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের হারুরিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর পরিমানে শরিফা ফল ধরেছে কৃষক জালাল উদ্দিনের বাগানে।
জালাল উদ্দিন জানান,

“আমি আড়াই বছর আগে কৃষি অফিসে একটা ট্রেনিং এ গিয়ে জানতে পারি যে এই শরিফা চাষ করাটা লাভজনক। তারপর তারা আমাকে চারা ও সার দেয়। আমি ১ বিঘা জমিতে শরিফা চাষ করি। প্রথম বছরেই আমি ৭০ হাজার টাকার মতো শরিফা বিক্রি করি। পরের বছর ৮০ হাজার টাকার বিক্রি করেছিলা। এবছর মনে হচ্ছে এক লাখ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারবো। ইতিমধ্যে ৬০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছি। আশা করছি ৩০-৪০ বছর ধরে ফল পাবো।”

তিনি বলেন, “এই ফল চাষ করে আমি অর্থনৈতিক ভাবে যেমন লাভবান হয়েছি। তেমনি এলাকায় আমি বেশি সুনাম পেয়েছি।”

তিনি বলেন, “আমি একা এই বাগান করেছি বিধায় ঢাকায় বিক্রি করতে পারি না। অল্প ফল নিয়ে যাওয়া সমস্যা। যদি আরো কৃষকরা বানিজ্যিকভাবে চাষ করতো তাহলে বাজারজাতে সুবিধা হতো এবং দাম ভালো পাওয়া যেতো। নরমাল শরিফা কুষ্টিয়ার বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি, ভালো মানের ফল গুলো ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।”


জালাল উদ্দিনের স্ত্রী জানান, “এই শরিফা বাগান করে আমাদের সংসার স্বচ্ছলতা এসেছে। এখন আমরা খুব খুশি। এটি খুবই লাভজনক।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহানুর রহমান জানান, “যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প যখন আমাদের প্রদর্শনী দেয়, তখন এটা সম্প্রসারণ খুবই কষ্টকর ছিলো। আমরা কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে এ চাষ শুরু করি। প্রথম বছরেই তিনি ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় করেন, তার পরের বছর থেকে ১লাখ টাকার কাছাকাছি ফল বিক্রি করেন। আশা করছি তিনি বছরে ৩ লাখ টাকার বেশি ফল বিক্রি করতে পারবেন।”
তিনি আরো বলেন, “এটির চাষাবাদ একদমই সহজ। এর রোগবালাই নেই বললেই চলে, এছাড়া এটির বাজারদর ভালো থাকে। তবে ফল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের আরো সহযোগিতা করা হলে বেশি লাভবান হবেন।”
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালী খাতুন জানান, “আমরা শরিফা চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছি। কৃষক জালাল উদ্দিনকে আমরা শরিফা চাষের জন্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে সহযোগিতা করি, তিনি শরিফা চাষ করে বেশ ভালো লাভবান হচ্ছেন। তার দেখাদেখি এখন শরিফা চাষে বেশ আগ্রহী হচ্ছেন অন্য কৃষকরা।”
তিনি বলেন, “পুষ্টিগুণে ভরপুর এ শরিফার বানিজ্যিক চাষাবাদ হলে একদিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হবেন অন্যদিকে পুষ্টি নিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাবে।”