কুষ্টিয়া ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২৩
নাইমুর রহমান পলক:
প্রচন্ড রোদ এবং গরমে যেখানে জনজীবন বিপর্যস্ত সেখানে একদল যুবকরা গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষকদের। গ্রামে বিদ্যুত না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা মাঠে না থাকতে পেরে বাগানে যখন জিরিয়ে নিচ্ছিলো তখন তাদের কাছে ঐ যুবকরা নিয়ে গেছে জ্ঞানের ভান্ডার বই নিয়ে। অবসর সময়ে মাঝে কৃষি বিষয়ক বাতি নিয়ে কৃষকের বাতিঘরের ঐ সদস্যরা।
শুক্রবার (১৬ জুন) দিনব্যাপী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামের বিভিন্ন আমবাগানে সমসাময়িক কৃষকদের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও আধুনিক চাষাবাদের পাশাপাশি আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজাজাত করণ নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
যিনি বই পড়তে পারেন তিনি জানেন যে বই এর মধ্যে কি রয়েছে। কিন্তু মাঠের কৃষকরা বেশিরভাগই নিরক্ষর। তাদের কাছে গিয়ে বই পড়ে আলোচনা করা কৃষকের বাতিঘরের নিত্য দিনের একটা কাজ।
গাছে গাছে আম পাঁকছে, সংরক্ষণের অভাবে আম চাষীরা লোকসানে আম বিক্রি করছে, আবার অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে ক্যামিকেল দিয়ে কাঁচা আম পাঁকিয়ে বিক্রি করছে এসব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষককের বাতিঘরের এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চাষীদের মাঝে তারা আমের আধুনিক জাত, আম চাষাবাদ পদ্ধতি, আম গাছের পরিচর্যা, আম সংগ্রহ, পাঁকানো, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কৃষকের বাতিঘরের সদস্যদের হাতে উচ্চ মুল্যের এসব ফসলের চাষাবাদ কৌশল ও ব্যয় স্বাশ্রয়ী চাষাবাদ সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে ‘যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প’। এ প্রকল্প থেকে তাদের আম চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ সর্ম্পকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য বই উপহার দেন।
সেই সাথে বাজারে প্রাকৃতিক উপায়ে পাঁকানো আম এবং ক্যেমিকেল দিয়ে পাঁকানো আম চেনার উপায় সর্ম্পকে হাতে কলমে কৃষকদের দেখানো হয় কৃষকের বাতিঘরের পক্ষ থেকে।
এ কার্যক্রমে অংশ নেন কৃষকের বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সামসুল হক, কার্যনির্বাহী সদস্য ও কৃষিবিডি’র পরিচালক জাহিদ হাসান, সদস্য নাইমুর রহমান পলক, জিসান আহম্মেদসহ অন্যান্যরা।
জাহিদ হাসান জানান, কৃষকরা যাতে আমের বিভিন্ন জাত পরিচিতি, চাষাবাদ, সংগ্রহ, পাঁকানো এবং বাজারজাত সর্ম্পকে সঠিক ধারনা পায় এই জন্য আমাদের এই আয়োজন ছিলো। আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে আম পাকানোর বেশি কয়েকটি পদ্ধতি যেমন- গরম স্থানে আম পাঁকানো, চালের কুঁড়ার মাধ্যমে আম পাঁকানো, কলার সাথে আম পাঁকানো এবং কাগজে মুড়িয়ে আম পাঁকানো সর্ম্পকে আলোচনা করা হয়। সেই সাথে আমের আধুনিক জাত পরিচিতি ও পোঁকা মাকড় ও রোগবলাই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও ক্যামিকেল দিয়ে পাঁকানো আম ও প্রাকৃতিকভাবে পাঁকানো আম চেনার উপায় সর্ম্পকে জানানো হয় আম চাষীদের।
উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে আজমত আলী ও আক্কাস আলী বলেন, কৃষকের বাতিঘরের লোকজন এসে আমাদের অনেক আমের নাম ও কিভাবে গাছ লাগাতে হবে, যতœ করতে হবে সেটা বলেছে। এত জাতের নাম আমরা আগে জানতামই না। বারো মাস আম ধরে এমন জাতও রয়েছে। তাছাড়া আমে পোকা ধরা কিভাবে বন্ধ করা যায় সেটাও বলেছে। এটা আমাদের জন্য উপকারে আসবে।
কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, কিভাবে কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম আমরা দেখলেই চিনতে পারি সে সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। আমে ব্যগিং করে ভালো মানের আম পাওয়া যায়।
আজমত আলী, আক্কাস আলী, আনিসুর রহমানের মতো হেদায়েত উল্লাহ, আজিজুর রহমান, সেলিম হোসেন, হাসিবুল ইসলামও শিখেছেন কৃষকের বাতিঘরের কাছ থেকে আম সর্ম্পকে বিস্তারিত তথ্য। বাস্তব জীবনে এটা তাদের কাজে লাগবে বলে আশা করেন তারা।
কৃষকের বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সামসুল হক বলেন, করোনার মধ্যে ২০২১ সালে নিবাপদ খাদ্যের লক্ষ্য ও কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কার্যক্রম শুরু করি আমরা। আমাদের সংগঠনের লাইব্রেরিতে এখন প্রায় ৩০০ বই রয়েছে। অস্থায়ী কার্যালয় থেকেই পরিচালনা করা হচ্ছে সব কার্যক্রম। বিভিন্ন ফসলের উপরে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা এবং চাষাবাদ সর্ম্পকে জানানোর জন্য এ কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।
যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, কৃষিকে আধুনিক ও বানিজ্যিক করতে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে। মিরপুর উপজেলার কৃষি ভিত্তিক সংগঠন কৃষকের বাতিঘর এর সদস্যরা কৃষকের দোর গোড়ায় গিয়ে কৃষি সেবা দিয়ে আসছে। সরকারের পাশাপাশি সংগঠন পর্যায়ে এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।


সম্পাদক: জাহিদ হাসান
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কৃষিবিডি.কম, কৃষিবিডি প্রাইভেট মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসলাম সুপার মার্কেট (২য় তলা), আমলা, মিরপুর, কুষ্টিয়া-৭০৩২।
যোগাযোগ:
০১৭৮০৮২৭৬০০,
info@krishebd.com
mail.krishebd@gmail.com
Crafted with by Softhab Inc © 2021