পুকুরের পোকামাকড় দমন করবেন যেভাবে

প্রকাশিত: ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, মে ২৪, ২০২২

পুকুরের পোকামাকড় দমন করবেন যেভাবে

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অনেক পতিত পুকুর রয়েছে। একটু চেষ্টা করলেই এসব পুকুরে খুব সহজে মাছ চাষ করা যায়। তবে এসব পুকুর মাছ চাষের জন্য তৈরি করতে চাষিকে প্রাথমিকভাবে পোকামাকড় দমনের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

এসব পুকুরে মাছ চাষ শুরু করলে বিভিন্ন জলজ পোকামাকড় আক্রমণ করে। কিন্তু এসব পোকামাকড় দমন করার পদ্ধতি জানা থাকলে সহজেই পোনা ছেড়ে মাছ চাষ করা যায়।

বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক, ডিজেল বা কেরোসিন প্রয়োগ করে নার্সারি পুকুরের জলজ পোকামাকড় ভালোভাবে দমন করা যায়। এসবের মধ্যে রয়েছে- ডিপট্যারেক্স- ৬ থেকে ১২ গ্রাম প্রতি শতক পুকুরে প্রয়োগ করা। সুমিথিয়ন বা নোভান- ২ থেকে ৩ গ্রাম প্রতি শতক পুকুরে প্রয়োগ করা।

এসব কীটনাশক ব্যবহারের নিয়ম হলো,-প্রয়োজনীয় মাত্রার কীটনাশক একটি পাত্রের মধ্যে ১০ লিটার পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে সমস্ত পুকুরে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। ডিপট্যারেক্স প্রয়োগের পর জলজ পোকামাকড় মারা যাওয়া শুরু করলে সমস্ত পোকামাকড় চটজাল দিয়ে তুলে ফেলতে হবে।

দুপুরের রোদে এসব কীটনাশক ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। কম তাপমাত্রা, মেঘ কিংবা বৃষ্টির সময় কীটনাশক ব্যবহার না করা। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মেনে চলতে হয় তা হলো,- কীটনাশক ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীকে নাক, মুখ, শরীর, কাপড়ে ঢেকে নিয়ে চশমা পরে নিতে হবে। বাতাসের অনুকূলে স্প্রে করতে হবে। সমস্ত মরা পোকামাকড় তুলে ফেলতে হবে।

এছাড়া ঘন নাইলনের জাল (ঘন পলিস্টার নেট) বার বার টেনেও পোকামাকড় সহনশীল মাত্রায় কমিয়ে আনা যায়। জলজ পোকামাকড় দমনের সময় উল্লিখিত যে কোনো একটি পদ্ধতি রেণু ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগে অনুসরণ করতে হবে।

পুকুরে খাবারের ঘাটতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতি শতাংশে ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম টিএসপি এবং ওই পরিমাণ ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। গ্রাসকার্প ও থাইসরপুঁটি সাধারণত নরম ঘাস ও সবুজ উদ্ভিদ খেতে পছন্দ করে। তাই এদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদেপানা, টোপাপানা, নেপিয়ার ঘাস ও কলাপাতা প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে হলেও সরবরাহ করতে হবে। এতে মাছের আনুপাতিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

গ্রাসকার্প জলজ আগাছাকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করায় কচুরিপানা বা অন্যান্য জলজ আগাছা এখন আর কোনো অবাঞ্ছিত উপকরণ নয় বরং মাছের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য।