অবহেলিত কচুরিপানা এখন স্বর্ণপথ

প্রকাশিত: ৩:০৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২৫

অবহেলিত কচুরিপানা এখন স্বর্ণপথ

এক সময়ের অবহেলিত ও গলার কাঁটা হয়ে ওঠা কচুরিপানা এখন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মানুষের জীবনে খুলে দিয়েছে নতুন আশার দুয়ার। জলজ এই উদ্ভিদ একদিন ছিল কৃষকের দুশ্চিন্তার কারণ, জলাশয়ের প্রতিবন্ধকতা। আর আজ তা-ই হয়ে উঠেছে কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি টেকসই মাধ্যম।

গ্রামবাংলার নদী-খাল-বিলের চিরচেনা দৃশ্য কচুরিপানা। কিন্তু এই সাধারণ গাছের শুকনো কান্ড থেকেই এখন তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প পণ্য—ফুলদানি, ঝুড়ি, ব্যাগ, টুপি, পাটি, পাপোশ, এমনকি জায়নামাজ পর্যন্ত। এই সব পণ্য একদিকে যেমন প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে টেকসই, তেমনি পরিবেশ সচেতন ভোক্তাদের কাছেও বেশ সমাদৃত। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও এসব পণ্যের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে।

সোনাপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ কচুরিপানা-নির্ভর একটি কুটির শিল্প, যা এখন ঘরে বসে নারীদের আয়ের বড় উৎসে পরিণত হয়েছে। খাল-বিল থেকে সংগৃহীত কচুরিপানা শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়। প্রতি কেজি শুকনো কচুরিপানার দাম ৫০ টাকা, যা থেকেই তৈরি হয় নানান পণ্য।

এই কাজে যুক্ত হয়েছেন নারী শ্রমিক, গৃহবধূ এমনকি শিক্ষার্থীরাও। যেমন, হাফিজুর নামে এক মাদ্রাসাছাত্র জানায়—“পড়ালেখার পাশাপাশি প্রতিদিন ১০০-২০০ টাকা আয় হয়। এতে নিজের খরচ চলে যায়, বাবা-মার ওপর চাপ কমে।”

উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বিদেশে আমাদের পণ্যের ভালো চাহিদা আছে। কিন্তু রাস্তার অবস্থা ভালো না হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। সরকার যদি এই দিকটা দেখে, তাহলে আরও বড় পরিসরে এই ব্যবসা পরিচালনা করা যেত।

নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুনন্নেছা এশা বলেন, যদিও কচুরিপানা জলাশয়ের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে, তবুও সোনাপুরের মানুষ এটি সম্পদে রূপান্তর করেছেন। আমরা তাদের বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছি। ভবিষ্যতে আর্থিক সহায়তার সুযোগ এলে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে।