উচ্চ ফলনশীন বোরো ধান ব্রি ধান ৮৯

প্রকাশিত: ১২:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৫

উচ্চ ফলনশীন বোরো ধান ব্রি ধান ৮৯

ব্রি ধান ৮৯ হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল (HYV – High Yielding Variety) বোরো ধানের জাত। এটি কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ এটি অধিক ফলন দেয় এবং কিছু পরিবেশগত চাপ সহনশীল।

জাত এর নামঃ ব্রি ধান ৮৯
অবমূক্তকারী প্রতিষ্ঠানঃ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
জীবনকালঃ ১৫৪-১৫৮ দিন দিন
সিরিজ সংখ্যাঃ ৮৯
হেক্টরপ্রতি ফলনঃ ৯.৭ টন কেজি

জাত এর বৈশিষ্টঃ
১। ১. পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৬ সে.মি.।

২. এ জাতের কান্ড শক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগ পাতা চওড়া।

৩. ধানের ছড়া লম্বা, পাকার সময় কান্ড ও পাতা সবুজ থাকে বিধায় সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে ফলে শীষের গোড়ার ধানও পুষ্ট হয়।

৪. এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান ২৯ এর চেয়ে ৩-৫ দিন আগাম।

৫. ১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৪.৪ গ্রাম।

৬. চালে অ্যামাইলেজের পরিমান ২৮.৫%।

৭. চালের আকার আকৃতি মাঝারি চিকন, রান্নার পর ভাত ১.৪ গুণ লম্বা হয়।

৮. ভাত ঝরঝরে ও খেতে সুস্বাদু।

চাষাবাদ পদ্ধতিঃ
১ । বীজতলায় বীজ বপনঃ : ১৭ কার্তিক থেকে ০১ অগ্রহায়ণ (০১-১৫ নভেম্বর)
২ । চারার বয়স ও রোপন দূরত্বঃ : ৪০-৪৫ দিন বয়সী চারা ২০×২০ সে.মি. ব্যবধানে লাগাতে হবে।
৩ । চারার রোপন সময়ঃ : ০১-৩০ পৌষ (১৫ ডিসেম্বর- ১৩ জানুয়ারি)
৪ । চারার সংখ্যাঃ : প্রতি গোছায় ২-৩ টি করে।
৫ । সার ব্যবস্থাপনাঃ (কেজি/বিঘা) : ইউরিয়া: ৩৫-৪০ কেজি, টিএসপি: ১২-১৪ কেজি, এমওপি: ১৫-২০ কেজি, জিপসাম: ১২-১৫ কেজি, দস্তা (জিংক সালফেট): ১-১.৬ কেজি।
৬ । আগাছা দমনঃ : রোপনের ৪০-৪৫ দিন জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
৭ । সেচ ব্যবস্থাপনাঃ : প্রয়োজন মাফিক সম্পূরক সেচ দিতে হবে। তবে এডব্লিউডি পদ্ধতি ব্যবহার করা উত্তম।
৮ । রোগ বালাই ও পোকামাকড় দমনঃ : এ জাতে রোগের আক্রমণ অন্যান্য জাতের তুলনায় কম। তবে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে অনুমোদিত বালাইনাশক অনুমোদিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
৯ । ফসল কাটাঃ : ০৫ থেকে ২০ বৈশাখ (১৮ এপ্রিল- ৩০ মে) এ জাতের বিশেষ প্রয়োজনীয়তাঃ এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান ২৮ এর চেয়ে ৩-৪ দিন আগাম এবং ফলন বেশি। ফলন বেশি এবং জীবনকাল কম হওয়ায় যে সব এলাকায় ব্রি ধান ২৯ চাষাবাদ হয় সেখানে সহজেই ব্রি ধান ৮৯ চাষ করা যাবে। ফলন বেশি বিধায় কৃষক লাভবান হবে।