কফি চাষে সফলতার হাতছানি

প্রকাশিত: ২:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৪

কফি চাষে সফলতার হাতছানি

শেরপুর সীমান্তের নালিতাবাড়ীতে কফি চাষে সফলতার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে সহজ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে কফি চাষকে আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলার পাহাড়ি এলাকার মাটির আর্দ্রতা ও উর্বরতার শক্তি কফি চাষের উপযোগী। এ অঞ্চলে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত ও মাটির গঠন বিন্যাস মিলে কফি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। তাই কফি চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য ‘অ্যারাবিকা’ ও ‘রোবাস্টা’ জাতের কফি চাষ শুরু হয়েছে। রোবাস্টা জাতের কফি বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় চাষের উপযোগী। মার্চ-এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রতিটি পরিপক্ব গাছে ফুল ধরা শুরু হয়। মে-জুন মাসের মধ্যে ফুল থেকে গুটি গুটি ফলে পরিণত হয়। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ফল পরিপক্বতা লাভ করে। পরে রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। বাজারজাত ও কফি পান করার জন্য উপযোগী করতে মেশিনের মাধ্যমে কফিবীজ গুঁড়া করে নিতে হয়। কফির বীজ থেকে চারাও উৎপাদন করা যায়।

কফি গাছ লাগানোর ৩ বছর পর ফল দেয়। যদিও বেশি পরিমাণ ফল পেতে ৬-৭ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গাছপ্রতি ৫-৭ কেজি কফি পাওয়া সম্ভব। প্রতি কেজির দাম ৮০-১০০ টাকা। প্রতি একরে ৬০০-৭০০ গাছ লাগানো যায়। সে হিসেবে বছরে ৬০০ কফি গাছ থেকে কমপক্ষে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার কেজি ফলন পাওয়া যায়। এর ন্যূনতম মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা। লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে কফি চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

অপেক্ষাকৃত কম খরচে, যে কোনো ছায়াযুক্ত স্থানে, বাগানে বা পুকুরপাড়ে সাথী ফসল হিসেবে কফি চাষ করে সফলতার হাতছানি পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাই কফি চাষে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। এরই মধ্যে শতাধিক কৃষক শুরু করেছেন কফি চাষ। তাদের উৎপাদিত তাজা কফি প্রক্রিয়াজাত করছে ‘তুলিপ কফি ফার্মিং অ্যান্ড রোস্টারি’ নামের প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান খোকা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি কম খরচে আয়ের পথ খুঁজছিলাম। কোথাও পাচ্ছিলাম না। পরে তুলিপ ভাইয়ের পরামর্শে কফি চাষের সঙ্গে যুক্ত হই। তিনি আমাদের ১০০ জন কৃষককে নানাভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। আমাদের কফি চাষের নির্দেশিকা ও সহায়ক বই সরবরাহ করেছেন। তার পরামর্শেই চাষ শুরু করেছি। অনেকেরই কফি উৎপাদন শুরু হয়েছে। আবার অনেকের শুরুর পথে। তুলিপ ভাই নিজেই সবার কাছ থেকে তাজা কফি কিনে নিয়ে প্রস্তুত করে বাজারজাত করেন।’

এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, কফির উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী কৃষকদের প্রশিক্ষণ আর প্রণোদনার মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত আছে। নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘নালিতাবাড়ীর আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতি কফি চাষের উপযোগী। স্থানীয় উদ্যোক্তা তুলিপ নিজে কফি চাষ করছেন বাণিজ্যিকভাবে। একই সাথে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে চারা বিতরণ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এরই মধ্যে শতাধিক আগ্রহী কৃষককে প্রশিক্ষণ ও সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি কফির চারা বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’