আমের নাম ‘ল্যাংড়া’ হলো যেভাবে

প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২৪

আমের নাম ‘ল্যাংড়া’ হলো যেভাবে

জৈষ্ঠের তাপদাহের সঙ্গে রসালো ফল আম, বছর বছর মৌসুম এলে এই ফল ছাড়া যে চলেই না। অনেকে তো এটিকে ফলের রাজা বলেও অভিহিত করেন। আম ভালবাসেন না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। স্বাদ, গন্ধ আর রঙে অতুলনীয় পাকা আমের কদর রয়েছে বিশ্বজুড়ে।

আমের রয়েছে আবার নানা প্রকার। সেসবের পেছনেও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন কাহিনী। ফলটির উৎপত্তি যেহেতু উপমহাদেশে, তাই এর কাহিনীরও অনেকাংশে রয়েছে এ অঞ্চলের নাম।

জানা যায়, ভারতবর্ষে মুঘল যুগের আগে থেকেই ভারতে আমের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। তবে মুঘলরা আসার পর থেকে আমের চাষ বাড়তে থাকে। মুঘল যুগের আগে স্বর্ণের দামে বিচার হতো আমের। তবে শাহজাহান আসার পর থেকে সেই প্রক্রিয়ায় বদল আসে। আম চাষ শুরু হতেই দেশে এটি সহজলভ্য হতে থাকে। ঐতিহাসিক কেটি আচারিয়ার বই “আ হিস্টোরিক্যাল ডিকশনারি অব ইন্ডিয়ান ফুড” থেকে জানা যায়, তোতাপারি, কেশর, রাতাউলের মতো আম মুঘল আমল থেকে ভারতে পাওয়া যায়। সেই সময় থেকে আমকে উপহার হিসেবে দেওয়ার রীতি রয়েছে। আম ছিল শাহজাহানের প্রিয় ফল।

প্রকারভেদে আমের আবার রয়েছে নানা নাম। যার মধ্যে অন্যতম “ল্যাংড়া”। অনেকেরই প্রিয় আম এটি। তবে “ল্যাংড়া” আমের নামকরণ নিয়ে রয়েছে একটি গল্প।

জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে ভারতের উত্তর প্রদেশের বেনারসের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে সংগৃহীত চারাগাছ থেকে এই আমের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই ব্যক্তির বাড়ি ও এর চারপাশে প্রচুর আমগাছ ছিল। তার পায়ে কিছু সমস্যা ছিল, যে কারণে তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটতেন। ওই চাষি “ল্যাংড়া” ছিলেন বলে সেই থেকে এই আমের নাম হয়েছে “ল্যাংড়া”।

“ল্যাংড়া” খুব পরিচিত আম। পেকে গেলে ল্যাংড়া আমের রং থাকে উজ্জ্বল সবুজ। পাওয়া যায় জুন থেকে আগস্ট মাসে। খেতে খুব মিষ্টি। একসময় ভারতীয় উপমহাদেশের গবেষকরা আমের প্রায় ১,৬৫০টি জাতের একটা তালিকা তৈরি করেছিলেন। এখনো হাজার রকমের আম পাওয়া যায়। তবে এর মধ্যে ৩০০ আমের জাত প্রচলিত। উপমহাদেশে প্রায় ১০০ জাতের আম ব্যাপকভাবে চাষ হয়। ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানে আমের চাষ বেশি।

ভারতের বেনারসে উদ্ভাবিত “ল্যাংড়া” আম বাংলাদেশে সব জেলাতেই জন্মে। বিশেষ করে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ আর নাটোরে বেশি পাওয়া যায়। সাতক্ষীরার “ল্যাংড়া” আম স্বাদে ও মানের জন্য বেশ পরিচিত।