মাগুরায় আঙুর চাষে প্রবাস ফেরত মজিদের বাজিমাত

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২৬

মাগুরায় আঙুর চাষে প্রবাস ফেরত মজিদের বাজিমাত

একসময় যে আঙুরকে বিদেশি ফল হিসেবেই চিনতেন স্থানীয় মানুষ, সেই আঙুরই এখন ঝুলছে মাগুরার শালিখার একটি বাগানে। থোকায় থোকায় লাল, সবুজাভ ও কালো রঙের আঙুরে ভরে উঠেছে বাগান। দেশের মাটিতে বিদেশি এ ফলের সফল চাষ করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের প্রবাসফেরত কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল মজিদ শেখ।

তার আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, আবার অনেকে সরাসরি বাগান থেকে আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে বাগানটি এখন এক ধরনের দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুল মজিদ শেখ ২০২৫ সালে শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করেন। শতখালী-রজকিনী চণ্ডীদাস সড়কের পাশে প্রায় ২০ শতক জমিতে গড়ে তোলেন আঙুরের বাগান। শুরুতে চারটি চারা রোপণ করলেও বর্তমানে তার বাগানে বিভিন্ন জাতের আঙুরের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইগোনর, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক এম্পায়ার, ভেলেজ, রিকসন, একোলো, গ্রিন লং ও জ্যোতি ব্ল্যাক সিডলেস।

মজিদ শেখ জানান, মালয়েশিয়ায় থাকাকালে চীনা কৃষকদের আঙুর চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। দেশে ফেরার সময় কয়েকটি চারা এনে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন। পরে যশোর, দর্শনা, রাজশাহী ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে বাগান সম্প্রসারণ করেন। বিশেষ করে জ্যোতি ব্ল্যাক সিডলেস জাতটি  বাগানে ভালো ফলন দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রথমে অনেকেই সন্দেহ করতেন এ এলাকায় আঙুর হবে কিনা। কিন্তু এখন ফলন দেখে সবাই অবাক হচ্ছেন। নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ৯ থেকে ১০ মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। এ বছর প্রায় ১৫ মণ আঙুর উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ৫ মণ বিক্রি করেছি। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বাগান থেকেই ক্রেতারা আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি সহায়তা পেলে আঙুর চাষ আরও সম্প্রসারণের ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

মজিদ বলেন, ‘আমার অর্থের প্রয়োজন নেই। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি পরামর্শ ও যান্ত্রিক সহায়তা পেলে আঙুর চাষ আরও বড় পরিসরে করা সম্ভব। এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।’

আঙুরের পাশাপাশি তিনি বেদানা, আপেল, কাঠিমন আম ও চায়না-থ্রি জাতের ফলগাছের চারা উৎপাদনও করছেন।