রুপালী বুকে সবুজের সমারোহ!

প্রকাশিত: ২:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২৩

রুপালী বুকে সবুজের সমারোহ!
নীলফামারী:
জেলার চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম হলো রবি মৌসুমে তিস্তার বালুর চর। নদীবেষ্টিত জেগে উঠে শত শত বালুর চর। এসব চরে কৃষকরা ভূট্টা, বাদাম, তিল-তিষি, গম, রসুন, পেঁয়াজ, ধনিয়া, সরিষাসহ প্রায় ১৬ জাতের অর্থকারী ফসল চাষাবাদ করে। তিস্তা চর এ যেন এই অঞ্চলের মানুষের গুপ্তধনের অরেক ভান্ডার।
সম্প্রতি জেলার কিসামত ছাতনাই, কালীগঞ্জ, চর খড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, বাইশপুকুর, শোলমারী, ফরেস্টের চর ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকদের পেঁয়াজ, মরিচ, সরিষা, মিষ্টি আলু, আলু তোলার দৃশ্য। এতে করে এগুলো চরে বসবাসকারী ছাড়াও অন্য এলাকার মানুষ এখানে শ্রম বিক্রি করছে।
আর ওই চরাঞ্চলের মানুষ রবি ও খরিপ মৌসুমের নানা ফসলের ওপর নির্ভশীল। দেখে মনে হচ্ছে এ যেন রুপালীর বুকে সবুজের মহামিলন মেলা। একে অপরকে ছাড়া অপূর্ণ থেকে যায়। চরে বালু যেমনি রুপালী রঙে ভেসেছে; তেমনি রুপালী বালুর ওপরে সবজু ফসলে ছেয়ে গেছে।
কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবছরে সরিষা গত বছরের অর্জিত ৫ হাজার ৫শ ৫৫ হেক্টর এবছর ৬ হাজার ৫শ হেক্টর, ধনিয়া গত বছর ১ শ ৪৫ হেক্টর এবছরও একই লক্ষ্য মাত্রায় নির্ধারণ করা হয়েছে। মরিচ গত বছরে ১ হাজার ৮শ ৮০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৯শ ৫ হেক্টর, রসুন ৯শ ১৭ হেক্টর থেকে ৯শ ২০ হেক্টরসহ অন্যান্য শাকসবজি ৫হাজার ৫শ ৮৩ হেক্টর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৭শ ১৯ হেক্টরে দাড়িয়েছে। এছাড়া জেলায় ভ‚ট্টা ২৪ হাজার ৫শ ২৫ থেকে ২৫ হাজার ১শ, পেঁয়াজ ১ হাজার ১০ হেক্টর থেকে ১ হাজার ১শ ৩ হেক্টর, গম ৪হাজার ৩শ ৮৫ হেক্টর, বাদাম ৫১ হেক্টর, আলু।
গত বছরের তুলনায় এবার ৬শ ১০ কমিয়ে ২১হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূট্টার ও গম নদী ভিত্তির এলাকাগুলোতে বেশি চাষাবাদ করা হয়েছে।
ফসেস্টের চরের শাফিন নামের এক কৃষক বলেন, ‘তিস্তা চর আমাদের কাছে গুপ্তধনের ভান্ডারের মতো। শাকসবজি, বাদাম, পেঁয়ার, ভূট্টা সহ অনেক ধরনের ফসল হচ্ছে। আমরা চাষাবাদ করে লাভবানও হচ্ছি।’
তবে, এদিকে কৃষি অফিসের কোনো তদারকি নেই বললেই চলে। যদিও কৃষি অফিসের লোকজন আসে ফটোসেশন করে চলে যান। তারা আমাদের মাথা বিক্রি করে খাচ্ছে।
চরখড়িবাড়ী গ্রামে কফিল উদ্দিন নামে আরেক কৃষক জানান, ‘চাষাবাদের জন্য জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হালকা চাষ করলে চাষের উপযোগী হয়ে যান। সার, বীজ, নদী হতে সেচ আর শ্রমিককে ব্যয়। তাই স্বল্প খরচে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।’
জিয়ারুল নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘তিন বিঘা (৯০ শতক) জমিতে ভূট্টা চাষাবাদে খরচ হয় প্রায় সাড়ে সাত হাজার থেকে দশ হাজার টাকা। এতে প্রায় ৭৫ থেকে ১২০ মণ ভূট্টা উৎপাদন হয়ে থাকে। তাবে বাজারে দাম ভালো থাকলে ৫২ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।’
কৃষি অধিদপ্তরের নীলফামারী উপ-পরিচালক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, জেলার চরাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষাবাদ হচ্ছে। অধিক ফসল উৎপাদনে সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।