কুষ্টিয়া ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬
সিলেট অঞ্চলের ৯২ শতাংশ মাটি অম্লীয় (অ্যাসিডিক)। তার মধ্যে ২৬ শতাংশ অতিমাত্রায় অম্লীয়। এ ধরনের মাটিতে মূলত সাইট্রাস (টক জাতীয়) ফলই বেশি উৎপাদন হয়। সে হিসাবে দেশের চা শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিলেট অঞ্চলে সাইট্রাস ফলই উৎপাদন হয়- এমনটা লোকমুখে প্রচলিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে সেই চিত্র। ফল চাষে সিলেট বিভাগে এখন সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে আম ও কাঁঠাল।
তবে আবাদ ও ফলন দুটোই বেশি হলেও সিলেটের অর্থনীতিতে খুব বড় প্রভাব রাখতে পারছে না এই দুই ফল। এখনও রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের আম-কাঁঠালের ওপরই নির্ভরশীল হতে হচ্ছে সিলেটের মানুষকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুণগত মান অনুযায়ী সিলেটের মাটি মূলত টক জাতীয় ফল উৎপাদনের জন্য উপযোগী। এছাড়া পাহাড়ি এলাকা থাকায় কাঁঠাল উৎপাদনের জন্যও উপযোগী সিলেট। তবে ফলনের জন্য উপযোগী না হলেও প্রতিবছর ফলের মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান আমের।
কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ আম-কাঁঠাল উৎপাদন হলেও সিলেটের অর্থনীতিতে খুব বড় প্রভাব রাখতে পারছে না এই দুই ফল। তবে টক জাতীয় ফল জারা লেবুর উৎপাদন খুবই সীমিত হলেও সেটি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ফলভিত্তিক বাগান সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে সিলেটে ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগে যেসব জমিতে কেবল লেবু বা ঐতিহ্যবাহী ফসল চাষ হতো, এখন সেখানে মিশ্র ফলবাগান গড়ে উঠছে। অনেক কৃষক চা-বাগানের আশপাশের টিলাভূমিতেও আম, কাঁঠাল ও আনারসের আবাদ করছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সিলেটের পাহাড়ি ও টিলাময় ভূ-প্রকৃতি ফলচাষের জন্য উপযোগী। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে ফলচাষ সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম প্রধান ফল উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে সিলেটের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সিলেটের খাদিমনগর এলাকার হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. রকিবুল ইসলাম রুমন বলেন, অ্যাসিডিক মাটির কারণে সিলেটে লেবু, কমলা এবং মালটা খুব ভালো জন্মে। এছাড়া গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকায় বর্তমানে প্রচুর আনারস চাষ হচ্ছে। আম, কাঁঠাল বা তরমুজ এই মাটিতে চাষ করা সম্ভব হলেও মাটিকে আগে চুন (ডলোচুন) প্রয়োগ করে নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ করে নিতে হয়।
তিনি বলেন, মাটিকে নিউট্রাল না করলে গাছ বড় হলেও ফলন আশানুরূপ হয় না। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আম বা কাঁঠাল চাষ করতে হলে অবশ্যই সঠিক গাইডলাইন অনুসরণ করে মাটি প্রস্তুত করতে হবে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, সিলেটের মাটিতে ‘পিএইচ’ মাত্রা কম থাকায় যে শুধু সাইট্রাস জাতীয় ফল উৎপাদন হয় তা নয়, অন্যান্য ফলের ফলনও ভালো। তবে বেশি আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ফলমূলের ওপর এর প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে রোগবালাই এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়, যা আমসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি করে।
তিনি বলেন, সিলেটের মাটি বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম। হাওর এলাকার মাটির গুণাগুণ এক কিলোমিটার পরপর ভিন্ন। আবার টিলা এলাকায় আরেক রকম। তবে মাটির সঠিক পরিচর্যা করলে সব ধরনের ফলই উৎপাদন করা সম্ভব। বিশেষ করে মাল্টা, পেয়ারা ও লেবুজাতীয় ফল এই মাটির জন্য বেশি উপযোগী।
আমের উৎপাদন বেশি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাসাবাড়ির আশেপাশে আম গাছ বেশি দেখা যাওয়ার কারণ হলো আমের মূল মাটির অনেক গভীরে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে পারে। তবে সিলেটে উৎপাদিত আমের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং ফল ঝরে যাওয়ার হার এখানে বেশি। যার কারণে বাণিজ্যিকভাবে কেউ চাষ করে না।
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, সিলেট অঞ্চলের মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে অম্লতার মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও এটি ফল উৎপাদনের জন্য বড় কোনো বাধা নয়। বরং লেবু, মাল্টা, কমলা, আনারস ও পেয়ারার মতো অনেক ফল এই পরিবেশে ভালো উৎপাদন দেয়। তবে আম, কাঁঠাল বা অন্যান্য ফলের বাণিজ্যিক চাষে মাটির পিএইচ, জৈব পদার্থের পরিমাণ এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়।
তিনি বলেন, সিলেটে বছরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হওয়ায় মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে নিয়মিত জৈব সার ব্যবহার প্রয়োজন। একইসঙ্গে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। ফলে আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বালাই দমন এবং উন্নত জাত নির্বাচন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, সিলেট অঞ্চলের ৯৬ শতাংশ মাটি অম্লীয়। এরমধ্যে ২৬ শতাংশ অতিমাত্রায় অম্লীয়। মাটির এই অম্লত্বের কারণে সিলেটে সকল ধরনের ফল জন্মায় না। তবে সাইট্রাই জাতীয় ফল উৎপাদন ভালো হয়।
গবেষকরা বলছেন, সিলেট অঞ্চলের ২৬ শতাংশ মাটির পিএইচ মাত্রা ৪.৫ এর নিচে। আর ৬৬ শতাংশ মাটির পিএইচের মাত্রা ৪.৫ থেকে ৫.৫। বাকি মাত্র ৮ শতাংশ মাটির পিএইচ ৫.৬ থেকে ৬.৫।
অন্যদিকে ৬৫ শতাংশ জমিতে জৈব পদার্থের মাত্রা ১.৮ থেকে ৩.৪ শতাংশ, ২১ শতাংশ জমিতে ১.৮ থেকে ৩.৪ শতাংশ, ২১ শতাংশ জমিতে ১.১ থেকে ১.৭ শতাংশ, ৩ শতাংশ জমিতে ১ শতাংশের কম। তবে ১১ শতাংশ জমিতে জৈব পদার্থের মাত্রা ৩.৫ থেকে ৫.৫ শতাংশ।
সিলেটের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দীপ্ত চক্রবর্ত্তী বলেন, মাটিতে পিএইচ’র মাত্রা ৭ এর কম হলে তাকে অ্যাসিডিক বলে। সিলেটের প্রায় ৮০ শতাংশ মাটির পিএইচ মাত্রা ৪.৫ থেকে ৫.৫ এর মধ্যে। কম পিএইচ মাত্রা মাটি সাইট্রাস বা লেবুজাতীয় ফলের জন্য উপযুক্ত।
তিনি বলেন, সিলেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা হাওর। যা বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকে। ধানের ক্ষেত্রে কম পিএইচ বা অ্যাসিডিক মাটি কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে এটি ফল ও সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা।
দীপ্ত চক্রবর্ত্তী বলেন, আমের জন্য সিলেট খুব একটা উপযোগী এলাকা নয়। আমের ফলন মাটির পাশাপাশি তাপমাত্রার ওপরও নির্ভর করে। সিলেটে প্রাকৃতিকভাবে আম গাছ হলেও বাণিজ্যিকভাবে আম চাষে সফল হওয়া কঠিন। কারণ এখানে সাধারণত এক বছর ভালো ফলন হলে পরের বছর গ্যাপ পড়ে।
তিনি আরও বলেন, সিলেট ও মৌলভীবাজারের পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল হয়। সে হিসেবে কাঁঠালের বাণিজ্যিকীকরণের বড় সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে কাঁঠাল বাণিজ্যিকভাবে চাষ না হয়ে মূলত প্রাকৃতিকভাবে টিলার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে উৎপাদন হচ্ছে।
সিলেট কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলায় অন্তত ৫১ ধরনের ফল উৎপাদন হয়। তবে কোনো ফলই বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি আম, কাঁঠাল, আনারস ও তরমুজ উৎপাদন হলেও তা বাণিজ্যিকভাবে চাষ না হওয়ায় রপ্তানি করার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না।
সিলেটে উৎপাদিত ফলের মধ্যে বিদেশে জারা লেবুর বেশ চাহিদা রয়েছে। আবাদ ও উৎপাদন দুটোই একেবারে কম হলেও বর্তমানে জারা লেবুই বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘ওয়্যারহাউজ প্যাকেজিং ব্যবস্থা’ না থাকায় সিলেটের ব্যবসায়ীরা এটি রপ্তানি করতে পারছেন না। ঢাকার কিছু ব্যবসায়ী সরাসরি সিলেটের চাষিদের কাছ থেকে ক্রয় করে বিদেশে রপ্তানি করছেন।
সিলেটের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গত বছরের এপ্রিলে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ফ্লাইট চালু হয়। কিন্তু সিলেট থেকে পণ্য রফতানিতে প্রধান বাধা ‘ওয়্যারহাউজ প্যাকেজিং ব্যবস্থা’। এ ব্যবস্থা না থাকায় ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পণ্য রফতানি করতে পারছেন না সিলেটের রপ্তানিকারকরা।
সিলেটের অন্যতম ফল আমদানি-রপ্তানিকারক মো. আবুল কালাম বলেন, বর্তমানে সিলেট থেকে সরাসরি ফল রপ্তানি করার সুযোগ নেই। একসময় সিলেট থেকে সাতকরা এবং জারা লেবু লন্ডনে রপ্তানি হতো। কিন্তু এখন শুধু জারা লেবুই রপ্তানি করা হয়, তাও ঢাকার ব্যবসায়ীরা বেশি করেন।
তিনি বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওয়্যারহাউজ প্যাকেজিং ব্যবস্থা না থাকায় রপ্তানিকারকরা ঢাকার মাধ্যমে ফল পাঠান। অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিরা সরাসরি ঢাকার পাইকারি বাজারে পণ্য বিক্রি করে দেন।
তবে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, বিমানবন্দরে সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে। ওয়্যারহাউজ প্যাকেজিং ব্যবস্থা না থাকায় শুধু ইউরোপ ও আমেরিকায় কাঁচামাল রপ্তানি করা যায় না। অন্যান্য দেশে রপ্তানি করার ইচ্ছা থাকলে সিলেট থেকেই পাঠানো যাবে। এখানে প্যাকেজিং ব্যবস্থা ছাড়া সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
তিনি বলেন, ওয়্যারহাউজ প্যাকেজিং ব্যবস্থা শুধু ঢাকায় রয়েছে। এখানে কৃষি বিভাগ এটি স্থাপন করেছে। সিলেটে গত দুই মাস ধরে কার্গো ফ্লাইট স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলায় উৎপাদিত ফলের তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছে কাঁঠাল, আম ও আনারস। বিশেষ করে মৌলভীবাজার জেলায় এসব ফলের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও চার জেলাতেই আনারস, তরমুজ ও কলার ফলনও অনেক বেশি।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফল উৎপাদন হয় মৌলভীবাজার জেলায়। এ জেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ১২১ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়েছে। আমের আবাদ হয়েছে আরও বেশি। ২ হাজার ২৩৯ হেক্টর জমিতে আম চাষ করে ২৮ হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন ফলন হয়েছে।
এছাড়াও ১ হাজার ৭৪৪ হেক্টর লেবু চাষ করে ফলন হয়েছে ২৮ হাজার ২৪৪ মেট্রিক টন, ১ হাজার ২২৩ হেক্টরে আনারস আবাদ করে ২০ হাজার ৭৯১ মেট্রিক টন এবং ৯৫৬ হেক্টর কলা চাষ করে থেকে ১৮ হাজার ৯৭৬ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। তাছাড়াও জাম, পেয়ারা, লিচু, মাল্টা, কমলা ও তরমুজেরও আবাদ রয়েছে।
সিলেট জেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে আমের। তবে উৎপাদনের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে তরমুজ। জেলার ৬৬৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করে ২৭ হাজার ৮৮৮ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া ৫৬৯ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল হয়েছে ১৯ হাজার ৯১৫ মেট্রিক টন, ৫৯৪ হেক্টর জমিতে কলার ফলন হয়েছে ১০ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন, ৪৮৯ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করে ফলন হয়েছে ৪ হাজার ০১৫ মেট্রিক টন এবং ২৮১ হেক্টর জমিতে লেবুর ফলন হয়েছে ৩ হাজার ৫৫৮ মেট্রিক টন। তাছাড়াও ১২৭ হেক্টর জমিতে জারা লেবু উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ মেট্রিক টন।
হবিগঞ্জে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছে। জেলার ৯৬০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ০৫৫ মেট্রিক টন। এছাড়া ১ হাজার ২৬০ হেক্টরে আম থেকে ৮ হাজার ১৩৭ মেট্রিক টন, ৬৩৬ হেক্টরে লেবু ৪ হাজার ৩৮৩ মেট্রিক টন এবং ৩৫০ হেক্টরে কলা ৪ হাজার ১৩৬ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। তুলনামূলক কম পরিসরে আনারস, জাম, মাল্টা, তরমুজ, বাতাবি লেবু ও কমলার চাষ হচ্ছে। হাওর অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জেও সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে তরমুজের। জেলার ৫৭৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৭৫৫ মেট্রিক টন। এছাড়া ১৯৬ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল ৭ হাজার ২০ মেট্রিক টন, ৪৩৩ হেক্টর জমিতে আম ৫ হাজার ৭১৩ মেট্রিক টন এবং ১৬২ হেক্টর জমিতে লেবুর ফলন হয়েছে ২ হাজার ২৩১ মেট্রিক টন। এ জেলায় কলা, পেয়ারা, জাম, আনারস, মাল্টা, বাতাবি লেবু ও কমলারও আবাদ রয়েছে।


সম্পাদক: জাহিদ হাসান
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কৃষিবিডি.কম, কৃষিবিডি প্রাইভেট মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসলাম সুপার মার্কেট (২য় তলা), আমলা, মিরপুর, কুষ্টিয়া-৭০৩২।
যোগাযোগ:
০১৭৮০৮২৭৬০০,
info@krishebd.com
mail.krishebd@gmail.com
Crafted with by Softhab Inc © 2021