সমাজ বিবর্তনে পশুপালনযুগ

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬

সমাজ বিবর্তনে পশুপালনযুগ

পশুপালন সমাজের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Pastoral Society) :

লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবিভাজন, ক্ষুদ্র পরিসরে যূথবদ্ধ সমাজ, প্রকৃতির উপর নির্ভরতা, স্বল্প যাত্রায় প্রযুক্তি, ব্যক্তিমালিকানা ও সামাজিক স্তর বিন্যাসের অনুপস্থিতি ইত্যাদি পশু পালন আর্থ-সামাজিক অবস্থার বৈশিষ্ট্য ছিল বলে মনে করা হয়।
নিম্নে পশু পালন সমাজের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো-
১. পশু পালন সমাজব্যবস্থায় পশুর খাদ্য যোগানের জন্য পশু পালনরত ভ্রাম্যমাণ আদিম মানব গোষ্ঠীই পরবর্তীতে যাযাবর জাতি হিসেবে পচারণ সমাজের ভিত গঠন করে। পশু পালনের প্রয়োজনেই মানুষকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে হতো। একটি নির্দিষ্ট স্থানের ঘাস, পানি প্রভৃতি ফুরিয়ে গেলে আবার নতুন কোথাও চলে যেতে হতো।
২. পশু পালন পর্যায়ে মানুষ মাংস, দুধ, মদ ইত্যাদি সংরক্ষণ করতে পারত। এছাড়া যেকোনো সময় প্রয়োজন হলে গৃহপালিত পশু থেকেও খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারত ।
৩. এ পর্যায়ের একটি নির্দিষ্ট স্থানের ঘাস, পানি প্রভৃতি ফুরিয়ে গেলে আবার নতুন কোথাও চলে যেতে হতো। অর্থাৎ পশু পালনের প্রয়োজনেই মানুষকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে হতো।

৪. সাধারণত পশু পালন সমাজ গড়ে উঠে সেসব এলাকায় যেখানে পশুকে খাওয়ানোর জন্য প্রচুর ঘাস পাওয়া যেত, মরুভূমি অথবা পাহাড়ের পাদদেশে।
৫. এ যুগে পশুর খাদ্য যোগানের জন্য পশু পালনরত ভ্ৰাম্যমাণ আদিম মানব গোষ্ঠীই পরবর্তীতে যাযাবর জাতি হিসেবে পশুচারণ সমাজের ভিত গঠন করে।
৬. এ পর্যায়ে মানুষ দেখল যে, পশু মজুত রাখতে পারলে খাদ্যের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব।
৭. এ পর্যায়ের সমাজ ব্যবস্থাতে বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমেও ব্যক্তিগত সম্পত্তির প্রচলন ঘটে। পশুকে সম্পদ হিসেবে গণ্য করে
পশুচারণ সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তির আবির্ভাব ঘটে।
৮. পশু পালন সমাজ ছিল সবসময়ই শান্তি প্রিয়, তারা শুধু চিন্তা করত তাদের খাদ্যের নিশ্চয়তা কীভাবে সম্ভবপর হবে। তাছাড়া তাদের সাম্প্রদায়িক রীতিনীতি এবং অনুষ্ঠানাদি যথাযথ মেনে চলত। এদের মধ্যে আবার অনেকেই ছিল যুদ্ধপ্রিয় তারা পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করে তৃণভূমি দখল করে নিত।
৯. সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা পশুপালন এই যাযাবরদের জীবনেই সর্বপ্রথম ব্যক্তিগত মালিকানার ধারণা জন্মায় এবং এ অবস্থা থেকেই তা স্বীকৃত হতে থাকে ।
১০.. পশু পালন সমাজে শিকার ও সংগ্রহ সমাজের মানুষের চেয়ে পশুচারণ সমাজের মানুষের মধ্যে সম্পদ ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য ছিল। দলনেতা এবং যুদ্ধনেতার হাতে পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত ক্ষমতা থাকত ।

সুতরাং বলা যায় যে, পশু ছিল মানুষের জীবন ধারণের একমাত্র অবলম্বন। পশু পালন সমাজ ছিল পশু লালন-পালন এবং তাদেরকে ঘিরেই গড়ে ওঠা। পশু পালন থেকেই বিভিন্ন রকম কাঁচামাল পাওয়ার সুবিধা হয়। সেগুলোকে কাজে লাগানোর জন্যে প্রয়োজন হয় নতুন রকম জিনিসের। এ সময়েই তৈরি হয় মাটির বাসন। ভেড়া ও ছাগলের গোশত যে শুধু খেতেই ভালো তা নয়, এগুলোর লোমে ভালো আচ্ছাদনও তৈরি হয়।